আজকের বাংলা খবর চাতলায় মা - মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধারে চাঞ্চল্য

চাতলায় খুন মা - মেয়ে আশ্রয়দাতা পুরুষের খুঁজে পুলিশ ।

আজকের বাংলা খবর


চাতলা বৈরাগীটিল্যায় উদ্ধার হল মা ও কিশোরী কন্যার   মৃতদেহ । মীরা রী ( ৪০ ) ও সঙ্গীতা রী ( ১৩ ) নামের এই মা - মেয়েকে যে খুন করা হয়েছে , এনিয়ে নিশ্চিত পুলিশ ।


মীরা মেয়েকে নিয়ে বৈরাগীটিলার যুবক অখিল দাস ( ৪২ ) - এর সঙ্গে তার বাড়িতে ছিলেন মাস ছয়েক , ধরে । বর্তমানে অখিলের খোজ মিলছে না । সন্দেহ করা হচ্ছে , মীরা ও সঙ্গীতাকে খুন করে পালিয়েছে সে । শনিবার সকালে অখিলের বাড়ি থেকে প্রায় তিনশত মিটার দূরে বিলের পাশে জঙ্গলে মীরা ও সঙ্গীতার মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায় । দুজনের শরীরেই ছিল আঘাতের চিহ্ন ।

এই জোড়া খুনের ঘটনার কথা । ছড়িয়ে পড়লে সৃষ্টি হয় তীব্র চাঞ্চল্যের , ঘটনাস্থলে জমে উঠে ভিড় । খবর পেয়ে ছুটে যায় পুলিশ ।



প্রাথমিক তদন্তের পর মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানাে হয় মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ।


এর পাশাপাশি অখিলের বাড়িতে গিয়েও তদন্ত চালানাে হয় । দেখা যায় বাড়িতে নেই অখিল । মানুষবিহীন বাড়িতে রান্নাঘরে উনুনের উপর দেখা যায় কড়াইয়ে রান্না করা মাংস , আর একটি থালায় ছিল কিছুটা ভাত । এছাড়া ঘরের বাইরে দাওয়ায় কয়েকটি স্থানে দেখা যায় ছােপ ছােপ রক্তের দাগ , পড়ে ছিল একটি সাবল সহ গামছাও । ঘরের ভেতর মেঝেয় একটি ফিতাও পড়ে থাকতে দেখা যায় । এসব দেখার পর গােয়েন্দা কুকুর নিয়ে এসে কাজে লাগানাে হয় ।

যদিও কুকুর । তেমন কোনও সংসূত্র দিতে পারেনি । | গােয়েন্দা কুকুর ঘটনা নিয়ে কোনও সংসূত্র দিতে না পারলেও পুলিশ এনিয়ে খুব । একটা ভাবিত নয় । বাড়ির মালিক অখিলই যে মা ও মেয়ের খুনী এনিয়ে পুলিশ প্রায়  নিশ্চিত । তাই বর্তমানে চলছে তার খোঁজ । । পেশায় মাছের ব্যবসায়ী অখিলের বাড়িতেই অন্যপ্রান্তে থাকেন তার বাবা মৃত্যুঞ্জয় দাস , ছােটভাই নিখিল দাস এবং নিখিলের পত্নী মায়ারানি দাসরা ।

মায়ারানি জানান , একই বাড়ির অন্যপ্রান্তে পৃথক ঘরে থাকলেও অখিলের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক নেই বললেই চলে । নেশায় অভ্যস্ত অখিলের চালচলন মােটেই ঠিক নয় , তাই বাবা - ভাই কেউই তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেন না । অখিলের পত্নী সহ দুই সন্তানও রয়েছে , তবে তার চালচলনের দরুন বাধ্য হয়ে পত্নী বছরখানেক আগে সন্তানদের নিয়ে চলে গেছেন অন্যত্র ।

মাস ছয়েক আগে হঠাৎ একদিন দেখা যায় মীরা ও সঙ্গীতাকে নিজের ঘরে নিয়ে এসেছে অখিল । তবে মীরাকে অখিল বিয়ে করেছে না তারা ' পিও টুগেদার করত এনিয়ে তার কোনও ধারণা নেই । তিনি শুধু এটুকুই বলতে পারেন , মীরা ও সঙ্গীতা মাস ছয়েক ধরে ছিল অখিলের আশ্রিত হয়ে ।

অখিলের চালচলন এবং মীরার সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়ে প্রতিবেশিদেরও বক্তব্য । একই প্রতিবেশিরা অনেকেই জানিয়েছেন , অখিলের সঙ্গে আশপাশের কারও তেমন সম্পর্ক ছিল না । শুধু দুই - তিনজন দুষ্ট প্রকৃতির লােক প্রায়ই যেত তার ঘরে । সন্দেহ করা ।

হচ্ছে , খুনের ঘটনায় অখিলের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে এরাও । মীরা সম্পর্কে জানা গেছে , তার বাবার বাড়ি ঘুংগুর ' আওয়ালটিলায় । বাবা তার বিয়েও দিয়েছিলেন । স্বামীর বাড়ি লক্ষীপুর থানা এলাকার বড় মামদায় । নাম মঙ্গল রী । তবে স্বামী বছর কয়েক আগে তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ায় তিনি ফিরে আসেন আওয়ালটিলায় বাবার বাড়িতে ।

এখানেই তার সঙ্গে যােগাযােগ ঘটে ' অখিলের ।

Silchar BTN news


এরপর মাস ছয়েক থেকে তিনি ছােট মেয়ে সঙ্গীতাকে নিয়ে অখিলের সঙ্গে তার বৈরাগটিলায় বাড়িতে গিয়ে বসবাস শুরু করেন । এদিন মেডিক্যালে মীরা ও সঙ্গীতার ময়নাতদন্ত করা হলেও দিনের ' ভাগে মৃতদেহ সমঝে নিতে আসেননি কেউ ।

সন্ধ্যার দিকে খবর পেয়ে মীরার ছোট বােন ও অন্য এক আীয় মেডিক্যালে পৌঁছালেও ততক্ষণে মর্গ বন্ধ হয়ে যায় । আগামীকাল রবিবার তাদের মৃতদেহ দুটি সমঝানাের কথা । ঘটনা নিয়ে সদর থানার ওসি ডিমণি গােস্বামী ও বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ পেট্রোল পােস্টের ইনচার্জ ইবােচৌবা সিংহকে জিজ্ঞেস করলে তারা বলেন - খুব সম্ভবত রাতে মাংস রান্নার পর তা সহযােগে মদ্যপান করে অখিল ।

সেসময় তার সঙ্গে অন্য কারও থাকার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি তারা । মদ্যপানের পর কেউ একজন ভাত খেতে বসার পর কোনও কারণে বিবাদ বাধে , এরপর গামছা - ফিতা এসব দিয়ে গলায় ফাস পরিয়ে এবং সাবলের আঘাতে হত্যা করা হয় মা ও মেয়েকে । রান্নাঘরের চিত্র এবং বাইরে মদের খালি বােতল সহ সাবল , গামছা এসব পড়ে থাকা থেকেই এমন ধারণা করা হচ্ছে হত্যার পর মৃতদেহ দুটি বয়ে নিয়ে গিয়ে ফেলে দেওয়া হয় বিলের পাশের জঙ্গলে ।

 তদন্ত প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়া দুই পুলিশ আধিকারিক সঙ্গে এও বলেন - এসব প্রাথমিক অনুমান মাত্র । অখিলের সন্ধান মিললেই জানা যেতে পারে পুরাে কাহিনী ।




Post a comment

0 Comments